এই শীতে বেড়েছে শিশুদের ডায়রিয়া? জেনে নিন করনীয়।

শীতের এই সময়ে সবাই শিশুর ঠান্ডা লাগা নিয়েই উদ্বিগ্ন; অথচ এই শীতে হঠাৎ বেড়েছে শিশুদের ডায়রিয়া। শীতে শিশুদের ডায়রিয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতার দরকার আছে বৈকি।


ভাইরাসজনিত এই ডায়রিয়ায় জ্বর খুব একটা থাকে না, শুরুটা হয় বমি দিয়ে এবং ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে যায়। মলে পানি বা জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি থাকে। এখন জেনে নিন শীতকালীন ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য।


ভাইরাসজনিত বলে এই ডায়রিয়ায় কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই।


অনেকে এই সময় মায়ের খাওয়া-দাওয়ায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেন, যা একেবারে ঠিক নয়। অনেকে আবার বুকের দুধ বন্ধ করে লেকটোজমুক্ত দুধ দেন, এটিও অনুচিত। মূলত এই ডায়রিয়ার আসল চিকিৎসা হলো খাওয়ার স্যালাইন। প্রতিবার অল্প অল্প করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। স্যালাইনের পরিমাণ হলো
শিশুর বয়স দুই বছরের কম হলে ১০-২০ চামচ। দুই থেকে ১০ বছর হলে ২০-৪০ চামচ। এর বেশি হলে যতটুকু খেতে পারে।


অনেকে মনে করেন, স্যালাইন খাওয়ালে বাচ্চার ঠান্ডা লাগবে। এই ধারণা অমূলক। অনেকে খাবার স্যালাইন খানিকটা গরম করে খাওয়াতে যান, সেটাও ভুল। বমি হলেও স্যালাইন বন্ধ করবেন না। কারণ বমির চিকিৎসাও হলো স্যালাইন। বমি হয়ে গেলে ১০-২০ মিনিট অপেক্ষার পর অল্প করে আবার স্যালাইন দিন।


স্যালাইন তৈরির পর ১২ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। চালের গুঁড়ার স্যালাইনও খাওয়াতে পারেন। সঙ্গে পানি, ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ও লবণ-গুড়ের শরবত খেতে দিন। সঙ্গে স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে। কাঁচাকলা ডায়রিয়ার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে
এই ধারণা ঠিক। তাই কাঁচাকলা সেদ্ধ করে ভাতের সঙ্গে চটকে দিতে পারেন।


সঠিক যত্ন নিলে শিশুদের শীতকালীন ডায়রিয়া ৫ থেকে ১০ দিনেই ভালো হয়ে যাওয়ার কথা। তবে খুব বেশি বমি হলে, স্যালাইন বা অন্যান্য খাবার খেতে না পারলে, অতিরিক্ত জ্বর থাকলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে, ১৪ দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে।

ডা. আবু সাঈদ

শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

Leave a Comment