জেনে নিন শীতকালীন সবজিগুলোর উপকারিতা সম্পর্কে

বাজারে উঠেছে শীতের নানা সবজি। সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ চলে এসেছে বিশ্বের প্রথম সারিতে। আর এর সুফল আপনি নেবেন না,তা কি হয়? জেনে নিন শীতকালীন সবজিগুলোর উপকারিতা সম্পর্কে।

 

কপি আছে নানান রকম:
ফুলকপি, ব্রকলি
এই গোত্রের সবজিগুলোকে একনামে আরুগুলা গোত্রীয় বলা যায়। শীতে বাজার ছেয়ে গেছে এই সবজিতে। ভিটামিন সি, , ডি এবং কে-এর দারুণ উৎস এগুলো, প্রচুর রয়েছে ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভালো কথা হলো যে এই গোত্রের সবজিতে অক্সালেটের মাত্রা কম, তাই কিডনি রোগীরাও খেতে পারবেন। ভিটামিন পুরোপুরি পেতে এগুলো বেশি রান্না করবেন না, ভাঁপ দিয়ে সেদ্ধ করে খান। তবে ভিটামিন এ, ডি এবং কে তেলে দ্রবণীয়, তাই  খানিকটা তেল ব্যবহার করতেই হবে।

গাজরের যত গুণ:
হালকা কমলা রঙের গাজর এখন চোখ ও মন জুড়িয়ে দিচ্ছে। ছোটবেলায় নিশ্চয় শুনেছেন যে গাজর খেলে চোখ ভালো থাকে। কথাটা মিথ্যা নয়। গাজরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। এটি চোখ ও ত্বক ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া গাজরে রয়েছে ভিটামিন সি, লুটিন, সাইকোপিন ইত্যাদি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সমাহার, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। গাজরের ভিটামিন সি এবং এ অতিরিক্ত তাপ, ঠান্ডা ও আলোয় কিছুটা হারায়, তাই এর গুণাগুণ পেতে মুখ বন্ধ বা জিপার প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখুন। হালকা তেলে সেদ্ধ ছাড়া প্রতিদিন সালাদে খানিকটা কাঁচা গাজর রাখুন, উপকার বেশি পাওয়া যাবে এতে।

বাঁধাকপিতে বাঁধা পড়ুন:
বাঁধাকপির পাতার মোড়কে আছে নানা পুষ্টিগুণ
ভিটামিন সি, কে। ফলিক অ্যাসিড বা ফলেট রক্ত বাড়ায়, গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে। এ ছাড়া এর গ্লুকোসিনোলেট নামের উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। গবেষণা বলছে, পাতা দিয়ে মোড়া এ ধরনের সবজি রক্তে চর্বি ও শর্করা কমায়। বাঁধাকপি আঁশেরও চমৎকার উৎসতাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

মূলা আর শালগম:
মুলা ও গাজর গোত্রীয় শেকড় সবজি। এতে আছে অনেক আঁশ, অনেক ভিটামিন। আধা কাপ মুলায় আপনি দৈনিক চাহিদার ভিটামিন সি অনেকখানিই পেয়ে যাবেন। আর এটি ফলেট ও পটাশিয়ামেরও ভালো জোগানদাতা। একই কথা খাটে শালগমের বেলায়ও। ভিটামিন সি, ফলেট, পটাশিয়াম ও ভিটামিন কে ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টি ক্যানসার উপাদান গ্লুকোসিনোলেটও। ক্যালসিয়ামও আছে বেশ। পাতে প্রতিদিন মুলা ও শালগমজাতীয় সবজি থাকাই ভালো।

 

জেনে নিন ডাবের পানির গুনাগুন

Coconut Water

ডাবের পানি হচ্ছে প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংকএটাই সাধারণের বিশ্বাস। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে, পানিশূন্যতা প্রতিরোধে এবং শক্তির উৎস হিসেবে কচি ডাবের পানি ভীষণ জনপ্রিয়। বলা হয়, একটি ডাবের পানিতে চারটি কলার সমান পটাশিয়াম আছে, সেই সঙ্গে আছে সহজ শর্করা বা চিনি, যা সহজে শোষিত হয়ে শক্তি দিতে পারে।


বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডাবের পানিকে খাওয়ার স্যালাইনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। ডায়রিয়া বা বমির পর পানিশূন্যতা দূর করতে ডাবের পানির ব্যবহার প্রচলিত। কিন্তু সম্প্রতি এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খেলাধুলা বা কঠোর পরিশ্রমে ঘাম হয়, আর এই ঘামের সঙ্গে দেহ হারায় পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম। ডায়রিয়া বা বমির পর দেহ থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। কিন্তু ডাবের পানি খেলে সেই অভাব পূরণ হবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে। দি পেডিট্রিয়া সাময়িকী বলছে, ডাবের পানিতে যথেষ্ট পটাশিয়াম থাকলেও সোডিয়ামের পরিমাণ অনেক কম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত খাওয়ার স্যালাইনের তুলনায় অন্তত ৩০ গুণ কম। আর এই দুই তরলের ঘনত্বেও ব্যাপক পার্থক্য আছে। তাই একে অপরের পরিপূরক হতে পারে না।


একটি সাধারণ কচি ডাবে আকারভেদে ২০০ থেকে ১০০০ মিলিলিটার পানি থাকতে পারে। এর ৯৫ শতাংশই পানি। আর সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য লবণের পরিমাপ স্থানভেদে একেক রকম। তবে সাধারণভাবে এক লিটার ডাবের পানিতে পটাশিয়াম আছে ৩৫ থেকে ৮২ মিলিমোল, সোডিয়াম ০.৭ থেকে ০.৯ মিলিমোল ও শর্করা ১.২ থেকে ২.৮ মিলিমোল। আর এক লিটার স্যালাইনে পটাশিয়ামের পরিমাণ ২০ মিলিমোল, সোডিয়াম ৭৫ মিলিমোল ও শর্করা ৭৫ মিলিমোল।

টমেটো মধ্যবয়সী নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

Tomato Decrease the Cancer Risk

প্রতিদিন টমেটো খেলে মধ্যবয়সী নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে পারে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই তথ্য দিয়েছেন। মেনোপজ হয়ে গেছে এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে, এমন নারীদের ওপর এই গবেষণা করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে।

 

 গবেষণায় দেখা গেছে, কমপক্ষে ১০ সপ্তাহ প্রতিদিন টমেটো বা টমেটোর তৈরি খাবার খাওয়ার পর রক্তে এডিপোনেকটিনের মাত্রা নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই এডিপোনেকটিন বৃদ্ধির সঙ্গে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসের সম্পর্ক আগেই প্রমাণিত। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন ও অন্যান্য ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং দেহে ক্যানসার রোধে উপকারী ভূমিকা রাখে।

 

 যুক্তরাষ্ট্রের ব্রেস্ট ক্যানসার ফাউন্ডেশন এই গবেষণাকাজ পরিচালনা করে।

জেনে নিন পেঁপের গুণাগুনবলী

benefits of papaya fruit

 

কাঁচা ও পাকা দুই ধরনের পেঁপেই শরীরের জন্য উপকারী। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন ও কাইমোপ্যাপেইন নামের প্রচুর প্রোটিওলাইটিক এনজাইম। এ উপাদান আমিষ ভাঙতে ও হজমে সাহায্য করে। তাই গরু, খাসি বা মুরগির মাংসের সঙ্গে কাঁচা পেঁপে বা রান্না করা পেঁপে খেলে বদহজম কম হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য হয় না। মাংস রান্নায় পেঁপের ব্যবহারে চর্বির পরিমাণও কমায়।

 

প্রচুর ভিটামিন এ ও সি রয়েছে পাকা পেঁপেতে। ভিটামিন এ ও সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যুদ্ধ করে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে, দাঁত, চুল, ত্বকের সুরক্ষা করে।

 

তা ছাড়া কেরোটিন, ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভোনয়েড হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার ও হূদেরাগ প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এর ফলিক অ্যাসিড হোমোসিস্টিনকে ভেঙে হূদেরাগের ঝুঁকি কমায়।

 

পেঁপে এমন একটি ফল, যাতে কোলেস্টেরল ও চর্বির পরিমাণ প্রায় শূন্য শতাংশ।

 

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে রয়েছে ৪৩ ক্যালরি শক্তি।

 

You are here: Home Health Tips Food and Nutrition