গরম আর বৃষ্টিতে গলাব্যথা ও গলা খুসখুস

Itchy Throat in Hot weather

 

গরম আর বৃষ্টি একসঙ্গে। এই আবহাওয়ায় অনেকের গলাব্যথা ও গলা খুসখুস হয়। এর বেশির ভাগই ভাইরাসজনিত। একটু সচেতন থাকলেই এ সমস্যা থেকে রেহাই মেলে। এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:

 

*বাইরে প্রচণ্ড গরম থেকে ফিরে চট করে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল না করাই ভালো। কারণ, এতে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে জিরিয়ে নিয়ে তবে গোসল করুন। ঘামে ভেজা জামাকাপড় যত দ্রুত সম্ভব পাল্টে নিন।

 

*বৃষ্টিতে ভিজলে ভেজা কাপড় পাল্টে মাথা মুছে নিন। বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা সঙ্গে নিয়ে বেরোন।

 

*ঠান্ডা লাগলে ও গলা ব্যথা হলে দু-এক ঘণ্টা পরপর এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চামচ লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে গর্গল করুন।

 

*যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করুন। পানিশূন্যতা যেন না হয়। ভালো হবে যদি গরম স্যুপ, চা, লেবু-চা ইত্যাদি পান করতে পারেন।

 

*ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম রাখবেন না। আরামদায়ক তাপমাত্রায় ঘুমাবেন।

 

*ধূমপান করলে সমস্যা আরও বাড়াবে। যেকোনো ধরনের ধোঁয়াও খারাপ। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন লেবু, মাল্টা, টমেটো ইত্যাদি বেশি করে খান।

 

*এ ধরনের ভাইরাস সহজেই অপরের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই এ সময় বাইরে থেকে এসেই ভালো করে হাত ধুয়ে নেবেন। অন্যের ব্যবহার্য জিনিস এড়িয়ে চলুন।

 

ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন

মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

শীতের মৌসুমে সর্দি,কাশি বা হাঁচি থেকে কিভাবে সাবধানে থাকবেন?

How to be safed from Sneezing and Cold in Winter

শীতের মৌসুমে সর্দি-কাশি-হাঁচি বা নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা হতেই পারে। তবে কারও কারও এমন সমস্যায় ভুগতে হয় পুরো শীতকালটাই। এই সময়টা তাই এদের দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এর প্রধান কারণ ঠান্ডা সংবেদনশীলতা বা কোল্ড অ্যালার্জি।


গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজন অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। একটা সময় অ্যালার্জি বলতে মূলত বিভিন্ন খাবারের প্রতি অ্যালার্জিকে বোঝানো হতো। আসলে ঠান্ডা কিংবা ধুলাবালু, আবর্জনা বা পরিবেশের অন্য উপাদানের প্রতি অ্যালার্জির কারণে সর্দি, হাঁচি বা নাকবন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা প্রায়ই হয়।


শীতের সময়টাতে পুরোনো শীতপোশাক, কম্বল, লেপ বা কাঁথা বের করতে গিয়েও এ ধরনের সমস্যা শুরু হতে পারে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বিছানা বা ঘর পরিষ্কার করতে গিয়েও হতে পারে এমনটা। সমস্যা শুরু হতে পারে রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকেও।
শীতের সময় ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেও হাঁচি, কাশি, সর্দি বা নাকবন্ধ সমস্যা পড়তে পারেন। তাই সবই যে অ্যালার্জিজনিত সেটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।


করণীয়
নির্দিষ্ট কোনো কারণে সমস্যা বারবার হচ্ছে কি না তা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। ঠান্ডা হাওয়া মূল কারণ হয়ে থাকলে তা থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করুন। ধুলা বা ধোঁয়ায় গেলে যাঁদের এ সমস্যাগুলো হয়, তাঁদের ধুলা বা ধোঁয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তির যে নির্দিষ্ট জিনিসটিতে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁকে সেটির সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।

 

জেনে রাখুন

এসব সমস্যায় যাঁরা সব সময় ভোগেন, তাঁদের নাকের ভেতরের মাংস বেড়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। এটিকে পলিপ ভেবে অনেকে ভুল করেন। এ বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

অনেকে মনে করেন, অ্যালার্জির রোগীরা অস্ত্রোপচার করালেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন, এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। অ্যালার্জির রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের সুযোগ নেই। এটা পুরোপুরি নিরাময় হবে না। তাই সব সময়ই সতর্ক থাকতে হবে।

 

অধ্যাপক এ এফ মহিউদ্দিন খান

আমাদের শরীরের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা

Zinc-For-Health-Immune-System

 

আমাদের শরীরে তিন শর বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়।


জিংকের অভাবজনিত সমস্যাঃ
গর্ভকালীন জিংকের ঘাটতি জন্মগত ত্রুটি, কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়; দেহের বৃদ্ধি রোধ, দৈহিক অপরিপক্বতা বা বামনত্ব হতে পারে; জিংকের অভাবে ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও কনজাংকটিভার প্রদাহ, পায়ে বা জিহ্বায় ক্ষত, মুখের চারপাশে ক্ষত, একজিমা, ব্রণ বা সোরিয়াসিসজাতীয় ত্বকের সমস্যা, ছত্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা এবং শরীরের ক্ষত শুকাতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়; এর অভাবে চুল পড়ে যায়, পুরুষের প্রজননক্ষমতাও কমে যায়; মানসিক দুর্বলতা, আচরণগত অস্বাভাবিকতা, অমনোযোগিতা, বিষণ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেয়।


শরীরে জিংকের অভাবের কারণঃ
পুষ্টিহীনতা, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ, কিডনি সমস্যা, অতিরিক্ত মদ্যপান, লিভারের সমস্যা ইত্যাদি।


কী কী খাবারে জিংক থাকে?
গরু ও ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য, শিমজাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ও ঝিনুকে জিংক পাওয়া যায়।  

 

ডা. মো. শরিফুল ইসলাম

মেডিসিন বিভাগ,শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল|

নাক ডাকা কোনো অসুখ নয়, তবে রোগের লক্ষণ হতে পারে

causes-of-snoring-and-how-to-stop

ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা নিঃসন্দেহে বিব্রতকর। নাক ডাকা কোনো অসুখ নয়, তবে রোগের লক্ষণ হতে পারে। যিনি নাক ডাকেন, তাঁর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণও। আর অবশ্যই পাশের মানুষটির জন্য এটি বিরক্তির উদ্রেক করে। সাধারণ কতগুলো নিয়ম মেনে চললে নাক ডাকার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 
গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়স্ক ৪০ শতাংশ পুরুষ ও ২০ শতাংশ নারী ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন। নাক ডাকা বড় কোনো সমস্যা মনে না হলেও শ্বাসযন্ত্র ও অন্য কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে মানুষের নাক ডাকতে পারে।

 
নাক ডাকার কারণঃ
-ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপথে কোনো বাধা এলে বাতাস শ্বাসযন্ত্রে কাঁপুনির সৃষ্টি করে। ফলে নাক ডাকার শব্দ হয়।
-ওজন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে গলার চারপাশে চর্বি জমা হয়। এতে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে।
-জন্মগত কারণে শ্বাসযন্ত্র সরু হলে বা চোয়ালে কোনো সমস্যা থাকলে। এতে ঘুমের মধ্যে নাকে শব্দ হয়। গলার পেশির নমনীয়তা কমে গেলেও ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে।
-ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল ও ঘুমের ওষুধ সেবন করলে এই সমস্যা বাড়ে।
-থাইরয়েডের সমস্যা ও গ্রোথ হরমোনের আধিক্যজনিত রোগের ফলে নাক ডাকে।
-অনেক সময় চিত হয়ে ঘুমালে জিব পেছনে চলে গিয়ে শ্বাসনালি বন্ধ করে দেয়। ফলে নাক ডাকার আওয়াজ হয়।

 

নাক ডাকা কমানোর উপায়ঃ
যাদের নাক বন্ধ থাকে বা সর্দি লেগে থাকে তাদের নাক পরিষ্কার করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত। ঘুমের দুই ঘণ্টা আগে থেকে চা-কফি পান করবেন না, মসলা ও তেলযুক্ত খাবার খাবেন না। কাত হয়ে শোয়ার অভ্যাস করুন। যারা স্থূলতার কারণে গলার পথ সরু হয়ে যাওয়ার কারণে নাক ডাকার সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের ওজন কমানো উচিত। নেশাজাতীয় দ্রব্য ও ঘুমের ওষুধ পরিহার করতে হবে। বুকের চেয়ে মাথা ওপরে থাকলে নাক ডাকার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায় বলে বালিশটা উঁচু করে নিতে পারেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে নাসারন্ধ্রে লেগে থাকা আঠার মতো দ্রব্যগুলো দূর হবে, নাক ডাকাও কমবে। নাক ডাকার সঙ্গে সারা দিন ঘুম ঘুম ভাব ও যত্রতত্র ঘুমিয়ে পড়ার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ

ডিন, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়|

শীতে পায়ের দুর্গন্ধ রোধ কি সম্ভব বা কী করণীয়?

দুর্গন্ধ রোধ করতে প্রথমত হাত-পা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি পরিষ্কার কাপড়চোপড়, মোজা ইত্যাদি ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

 

এতে দুর্গন্ধ রোধ না হলে প্রতিদিন এক গামলা পানিতে দু-তিনটি পটাশিয়ামের দানা দিয়ে হালকা বেগুনি রঙের দ্রবণ তৈরি করে এর মধ্যে ১৫ মিনিট হাত-পা ডুবিয়ে রাখতে হবে। তাহলে আর দুর্গন্ধ থাকবে না। 

 

অধ্যাপক ডা. রাশেদ মো. খান

বিভাগীয় প্রধান, চর্ম ও যৌন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

You are here: Home Health Tips General Health