গোড়ালি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোড়া, যা মচকে যেতে পারে।

Ankle-Sprain Treatment

গোড়ালি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জোড়া, যা প্রতিনিয়ত দাঁড়াতে, হাঁটতে, দৌড়াতে ও ওঠানামা করতে ব্যবহৃত হয়। এসব কাজে হঠাৎ গোড়ালি মচকে যেতে পারে।

 

এ ছাড়া গর্তে পড়ে গিয়ে, রিকশা বা বাস থেকে নামতে গিয়ে, সিঁড়িতে নামার সময় ধাপে ঠিকমতো পা না পড়লে, খেলাধুলার সময়, জুতার সমস্যার কারণে, এমনকি বিছানা থেকে উঠতে গিয়েও গোড়ালি মচকাতে পারে।

 

মচকানোর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে গোড়ালির লিগামেন্ট বিস্তৃত হওয়া থেকে শুরু করে এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। কিছুটা মচকানোর আঘাত কয়েক দিনেই ভালো হয়ে যায়। এ ধরনের মচকানোকে তাৎক্ষণিক বা অ্যাকিউট মচকানো বলে। যখন মচকানো দুই সপ্তাহের বেশি সময় রোগীকে আক্রান্ত করে রাখে, তখন একে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদি মচকানো বলে। গোড়ালি মচকানোর ফলে জোড়ায় ব্যথা হয় এবং জোড়া ফুলে যায়। ফোলা ও ব্যথার জন্য জোড়া নড়াচড়া করানো যায় না। পায়ে ভর দিলে ব্যথা বেড়ে যায়।

করণীয়

  • গোড়ালিকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে.
  • দু-তিন দিন পায়ে ভর না দিয়ে ক্রাচ দিয়ে হাঁটতে পারেন।
  • বরফের টুকরো টাওয়ালে জড়িয়ে বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি প্লাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে মচকে যাওয়া স্থানে ধরে রাখলে ব্যথা ও ফোলা কমে আসবে। প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পরপর ২০ মিনিট ধরে এই ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে এটি সহ্যের মধ্যে রাখতে হবে। এ পদ্ধতি আঘাতের ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে।
  • ইলাসটিক সাপোর্ট বা অ্যাংলেট ব্যবহারে ফোলা ও ব্যথা কম হবে।
  • অ্যানালজেসিক বা ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে।
  • আঘাতের ৪৮ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানির সেক বা ঠান্ডা সেক ব্যবহারে ব্যথা কম হবে।
  • গোড়ালির স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং পেশি শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে।
  • অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি ইনজুরির ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল থেরাপি প্রয়োজন হতে পারে।
  • হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিত হলে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে শুরুতেই গোড়ালি মচকে যাওয়ার কারণ জানাতে হবে। এরপর গোড়ালি পরীক্ষা করে মচকানোর তীব্রতা নির্ণয় করতে হবে। গোড়ালির এক্স-রে করতে হবে। অন্যান্য সমস্যা যেমন ফ্র্যাকচার ও জোড়ার ডিসপ্লেসমেন্ট নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে।

 

ডা. মো. শরীফ হোসেন |

জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র |

 

 

You are here: Home Health Tips Orthopedics